bannerbanner
KTPH: কিডনি স্টোন / পাথর
Overview

কিডনিতে পাথর কি?

ktph-hl-kstonesb1.png

প্রসাবে বেশী পরিমাণে ক্রিস্টালের / স্ফটিকের উপস্থিতির কারণে কিডনিতে পাথর হতে পারে। এই স্ফটিকের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হল অক্সালেট এবং ইউরেট, যা সাধারণ প্রসাবেও পাওয়া যায়।

নিচের দিকে উপস্থিত হলে তারা সাধারণত কোনো সমস্যা সৃষ্টি করে না, তবে স্ফটিক গঠন করতে পারে এবং উচ্চ ঘনত্বে পাথর গঠনের কারণ হতে পারে।

কিডনির এই পাথর মূত্রনালীতে যেতে পারে এবং প্রসাবে ব্যথা বা রক্ত দেখা যেতে পারে।

ছোট পাথর বেরিয়ে যেতে পারে, কিন্তু বড় পাথর মূত্র প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং তারপরে আরও চিকিৎসা বা প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হতে পারে। আপনার ডাক্তার আপনাকে পরামর্শ দেবেন আপনার জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা কি হবে?

কিডনিতে পাথরের সাধারণ প্রকারগুলি হল ক্যালসিয়াম অক্সালেট বা ক্যালসিয়াম ফসফেট। অন্যান্য ধরনের পাথরের মধ্যে রয়েছে স্ট্রুভাইট পাথর, ইউরিক অ্যাসিড পাথর এবং সিস্টাইন পাথর।

এটির লক্ষণগুলি কী কী?

কিডনিতে পাথর থাকলে নিচের লক্ষণগুলি হতে পারে:

• পিঠের নিচের অংশের দুই পাশে তীব্র ব্যথা

• প্রসাবের সময়, তলপেটে বা কুঁচকিতে ব্যথা

• গোলাপী, লাল অথবা বাদামী রঙের মূত্র

• ঘোলা বা দুর্গন্ধযুক্ত মূত্র

• প্রসাব করার বারবার যাবার তাগিদ

• জ্বর এবং কাঁপুনি, যদি সংক্রমণ থাকে

যাইহোক, কিছু কিডনি স্টোনের কোনো উপসর্গ নাও থাকতে পারে।

জীবনযাত্রার নিয়মাবলী

নিম্নলিখিত জীবনযাত্রার নিয়মাবলির কারণগুলি কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়:

• কম পরিমাণে পানি খাওয়া

• প্রোটিন এবং সোডিয়াম অতিরিক্ত খাওয়া

• মোটা হওয়া (BMI > ২৩)

নিম্নলিখিত খাদ্যতালিকা মেনে চললে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমাতে পারে।

প্রচুর পানি খাবেন

প্রসাব যাতে ভালো পরিমাণে হয় তা নিশ্চিত করতে এবং কিডনিতে খনিজ পদার্থ জমা হওয়া রোধ করতে প্রতিদিন ২/৩ লিটার (৮-১২ কাপ) তরল পানীয় পান করুন।

আপনাকে উচ্চ সাইট্রাস সামগ্রী সহ পানির গ্রহণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং কার্বনেটেড পানীয় কম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যদি ওজন অনেক বেশী হয়, তাহলে সমস্ত উচ্চ ক্যালোরি পানীয় গ্রহণ কমিয়ে দেন। উচ্চ সাইট্রিক সামগ্রী সহ পানীয়গুলির উদাহরণগুলির মধ্যে রয়েছে:

ktph-hl-kstones2.jpeg
লেমোনেড 
 
ktph-hl-kstones3.jpeg
কমলালেবুর রস

কম সোডিয়াম থাকা খাবার বেছে নিন

তাজা খাবার গ্রহণ করুন এবং প্রক্রিয়াজাত বা সংরক্ষিত খাদ্য গ্রহণের পরিমান কমিয়ে দিন। এই প্রকারের খাবারের উদাহরণ হল:

ktph-hl-kstones4.png
তাজা খাবার 
ktph-hl-kstones5.png
প্রক্রিয়া করা বা সংরক্ষিত খাবার

মাঝারি পরিমাণে প্রোটিন জাতীয় খাবার খাবেন

প্রতিদিন ২-৩ টি পরিবেশনে আপনার প্রোটিন সেবন সীমিত করুন। ১টি পরিবেশনের উদাহরণ হল:

ktph-hl-kstones6.jpeg
৯০ গ্রাম মাছ / পোলট্রি / মাংস (হাতের তালুর মাপ) 
 

ktph-hl-kstones7.jpeg
২ গ্লাস দুধ 
 

ktph-hl-kstones8.jpeg
১৭০ গ্রাম বিনকার্ড 
 

ktph-hl-kstones9.jpeg
৫ টি মাঝারি চিংড়ি মাছ 
 

ktph-hl-kstones10.jpeg
১২০ গ্রাম রান্না করা বিন / ডাল

যথেষ্ট পরিমাণে ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার খাবেন

খাদ্যের ক্যালসিয়াম কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায় না, আর তাই পরিপূরক খাবারের পরিবর্তে মানুষদের উচিত ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার বেছে নেওয়া। ইচ্ছাকৃতভাবে খাদ্যতালিকায় ক্যালসিয়াম গ্রহণ কমাবেন না, কারণ অপর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম হাড়ক্ষয় জনিত অসুখের কারণ হবে।

নিচের তালিকাটি সাধারণ সুস্থ ব্যক্তিদের জন্য প্রস্তাবিত ক্যালসিয়াম গ্রহণ দেখায়:

শ্রেণীমিগ্রা/ প্রতি দিন
১০-১৮ বছর বয়সী১০০০
১৯-৫০ বছর বয়সী৮০০
৫১ বছর এবং তার বেশি১০০০
গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী১০০০

প্রতিদিন ১ পরিবেশন উচ্চ ক্যালসিয়াম দুগ্ধজাত পণ্য খাওয়ার সুপারিশ করা হয়। ১ টি পরিবেশনের উদাহরণ হল:

ktph-hl-kstones7.jpeg
২০০ মিলি দুধ 
 

ktph-hl-kstones11.jpeg
২০০ গ্রাম দই 
 

ktph-hl-kstones12.jpeg
১ টুকরো চিজ 
 

ktph-hl-kstones8.jpeg
১৭০ গ্রাম বিনকার্ড

অক্সালেট সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া কমান

অক্সালেট-সমৃদ্ধ খাবার কম খেলে পাথর হওয়ার সম্ভাবনাও কমে যায়। উদাহরণ হল:

ktph-hl-kstones13.jpeg
বিট 
 

ktph-hl-kstones14.jpeg
ডুমুর 
 

ktph-hl-kstones15.jpeg
বাদাম ও বীজ জাতীয় খাবার 
 

ktph-hl-kstones16.jpeg
চকলেট 
 

ktph-hl-kstones17.jpeg
পালং শাক 
 

ktph-hl-kstones18.jpeg
ক্যাফিনযুক্ত পানীয় (চা-কফি)

URO.PE.06B.0823

This article was published by Khoo Teck Puat Hospital and updated in 2026.